শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন

বার কাউন্সিল ভাইভার অতি গুরুত্বপূর্ণ টিপস ও প্রস্তুতি

নগদ নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১১ জুলাই, ২০২১

আর অল্প কিছু দিনের মধ্যে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল আয়োজন করতে যাচ্ছে এডভোকেটশীপ ভাইবা পরিক্ষা। ইতিমধ্যে আইনের যে সকল ছাত্র-ছাত্রী এমসিকিউ এবং লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তারা এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন,যারা লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তারা তাদের রোল অনুসারে বার কাউন্সিল থেকে জানিয়ে দেওয়া হবে কবে কার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

এই বিষয়টি বার কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে জানিয়ে দেয়া হয়। সেই সাথে বার কাউন্সিলের নোটিশ বোর্ডে টানিয়ে দেয়া হয়। যারা পরীক্ষা দেবেন তারা নির্ধারিত দিনে ওয়েল ড্রেস আপ হয়ে পরীক্ষায় বসবেন।পরীক্ষার জন্য কিছু বেসিক ইনফরমেশন দেওয়া দরকার,প্রথমত এই পরীক্ষাটি হবে ৫০ মার্কের যারা পরীক্ষায় বসবেন তাদের ২৫ মার্ক পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। সাধারণত বার কাউন্সিল পরীক্ষার জন্য ৬,৭ টি বোর্ড গঠন করে থাকেন।

গত ভাইবা বোর্ডে এই পরীক্ষার জন্য সাতটি বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। সাধারণত পরীক্ষা শুরু করা হয় সকাল ১০ টা থেকে রাত পর্যন্ত।সকাল১০ থেকে রাত পর্যন্ত যদি পরীক্ষা নেওয়া হয় তাহলে ১২০ জন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয়। আর যদি বিকেলে পরীক্ষা নেওয়া শুরু হয় তাহলে সাধারণত ৬০ জনের পরীক্ষা নেওয়া হয়।

এই পরীক্ষার জন্য প্রত্যেকটি বোর্ড গঠন করে তিনজন আইন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে, এর মধ্যে দুজন থাকেন মাননীয় বিচারপতি অন্য একজন থাকেন বার কাউন্সিল কর্তৃক নির্ধারিত অভিজ্ঞ আইনজীবি। যারা এই পরীক্ষা নিয়ে থাকেন,তারা অত্যন্ত গুনিজন তাদের প্রথম ও প্রধান লক্ষ থাকে, যারা পরিক্ষা দেয় তাদের মেধা এবং মনন যাচাই করে ভবিষ্যতে কাজ করবে অর্থাৎ আইন পেশার সাথে নিযুক্ত থাকবেন এই সমস্ত ব্যক্তিদেরকে যদি তারা চিহ্নিত করতে পারেন, তাহলে তাদেরকে এই পরিক্ষা পাশ করা সুযোগ করে দেন।যারা ভাইবা পরিক্ষায় অংশগ্রহন করেন তারা যদি বার সমিতির সাথে সংযুক্ত থাকে এবং নিয়মিত বারে প্রাকটিস করে তাহলে তাদের পরিক্ষা পাশ করা কোন ব্যাপার না খুব সহজেই তারা পাশ করতে পারেন। যারা এই পরিক্ষা গ্রহন করেন তারা নিশ্চিত হতে চান যারা ভাইভা পরিক্ষা বসেছেন তারা কোর্ট যাতায়াত করেছেন, করবে এবং ভবিষ্যৎও প্রাকটিস করবেন যদি এমন তারা বুঝতে পারেন সাধারণত সেই পরিক্ষা পাশ করেন।

সাধারণত যে প্রশ্নগুলো করা হয়, সেই উত্তর গুলো এমন হয় যে কোর্টে গেলে একজন শিক্ষার্থী সহজেই জেনে নিতে পারেন। প্রথমে ভাইবার জন্য প্রস্তুতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্ব ও সর্বপ্রথম প্রয়োজন সেটি হচ্ছে ড্রেস কোর্ট অনুসারে প্রস্তুতি নেওয়া।নির্দিষ্ট দিনে একজন পরীক্ষার্থী ওয়েল ড্রেস আপ হয়ে, মাথার চুল পরিপাটি করে নিদিষ্ট কক্ষে প্রবেশ করতে হবে এবং নিদিষ্ট বোর্ডে প্রবেশ করবেন। প্রবেশ করার আগে একজন পরীক্ষার্থীকে অবশ্যই প্রস্তুতি নিতে হবে মানসিকভাবে এবং সেই সাথে ফিজিক্যালি প্রস্তুতি থাকতে হবে, যে মানসিক প্রস্তুতি নিবেন সেটাতে অবশ্যই থাকতে হবে আত্মবিশ্বাস। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ভাইভা পরীক্ষার জন্য সেটা হলো আত্মবিশ্বাস, যে আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান সে খুব সহজেই ভাইভা ফেস করতে পারে।

অপরদিকে ভাইবা প্রস্তুতির জন্য ভাইভা তে বসবার আগে অবশ্যই যিনি ভাইবাতে অংগ্রহন করতে যাচ্ছেন পরীক্ষা দিতে যাচ্ছেন তিনি সাথে সাথে তার সমস্ত একাডেমিক সার্টিফিকেটের মূল কপি সঙ্গে করে নিয়ে আসবেন। মূল সার্টিফিকেট এর সাথে অবশ্যই মার্কশিট নিয়ে আসতে হবে।

সেইসাথে প্রবেশপত্র সম্ভব হলে রেজিস্ট্রেশন কার্ড টিও সাথে করে নিয়ে আসতে হবে। একটি কলম নিয়ে আসতে ভুল করা যাবে না,অনেক সময় ভাইভা বোর্ডে কিছু লিখতে দিতে পারে। লিখতে দিলে কলম সাথে না থাকলে অবশ্যই অবশ্যই একটি বিপদ হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। এই সমস্ত কাগজপত্র একটি নির্দিষ্ট ট্রান্সপারেন্ট ব্যাগে নিয়ে গেলে ভালো, সাথে অবশ্যই অবশ্যই কেস ডাইরি নিয়ে যেতে হবে।

ভাইভা বোর্ডে প্রবেশ করার সময় সালাম দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত ভাইভা বোর্ডের সদস্যরা পরীক্ষার্থীকে বসতে না বলবে ততক্ষণ পর্যন্ত বসা উচিত নয়। যখন বসতে বলবে তখন ধন্যবাদ দিয়ে আসন গ্রহণ করা উচিত।

মনে রাখতে হবে এই সময় চেয়ার পিছনে সরানে সামনে সরানো এই ধরনের কাজ কিন্তু অবশ্যই করা যাবে না। বসার পরে যে প্রশ্নগুলো করা হবে অর্থাৎ ভাইভাতে যে সমস্ত প্রশ্ন করা হবে তার কিছু নমুনা প্রশ্ন। প্রথমত কেস ডাইরি থেকে প্রশ্ন করা হয়, যেমন আপনি যে মামলা করেছেন, কোন কোর্টে মামলা করেছেন? কোন ধারায় করেছে কি শান্তি হতে পারে এগুলো জিজ্ঞেস করতে পারে।

আপনাকে প্রশ্ন করতে পারে আপনার মামলা কোন আদালতে করা হয়েছে? এখন এই মামলাটি কি অবস্থা আছে? এখন কোন আদালতে বিচারাধীন আছে।আপাতত করা হতে পারে যে এই মামলাটির অবস্থা কি? কোন অবস্থায় মামলাটি আছে? সেজন্য কেস ডায়েরির মামলাগুলো সম্পর্কে অবশ্যই অবশ্যই স্পষ্ট ধারণা নিয়ে বোর্ডের সামনে হাজির হতে হবে।

এরপর আপনাকে নাম জিজ্ঞাসা করার সাথে সাথে যেহেতু তারা অত্যন্ত অভিজ্ঞ অত্যান্ত বুদ্ধিমান সেজন্য আপনাকে সম্মান করে আপনার কাছ থেকে জেনে নিতে চাইবে আপনার নামের সাথে কোন বিখ্যাত ব্যক্তির নামের মিল আছে?

আপনাকে প্রশ্ন করতে পারে আপনার জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তির নামের কথা, সেই সাথে আপনাকে প্রশ্ন করবে আপনি কোন কোর্টে প্রাকটিস করবে এবং সেই বারের সভাপতি সম্পাদকে নাম কি। আপনার সিনিয়ের নাম জিজ্ঞেস করবে।

আপনি সিনিয়রের নাম বলবেন শ্রদ্ধার সাথে, বিজ্ঞ অ্যাডভোকেট সিনিয়র অমুক বিজ্ঞ সিনিয়র এডভোকেট শব্দটি ব্যবহার না করলে আপনাকে কিন্তু ভাইবা বোর্ড অবশ্য অবশ্যই ডিসকোয়ালিফাইড করবে।
আপনাকে প্রশ্ন করলো কয়েকটি আইন এর নাম বলুন এবং সেখান থেকে যে প্রশ্ন গুলো করা হয় সেগুলো বেসিক।

মেইন বিষয় হলো আপনার লয়ের উপর বেসিক ধারনা যে আছে, সেটা আপনাকে ফুটাইয়া তুলতে হবে তাহলে ইনশাআল্লাহ পাশ করবেন।

ভাইভা বোর্ড যেটাই প্রশ্ন করুন না কেন বিনয়ীর সহিত সঠিক উত্তর করলে ভাইভা বোর্ড আপনাকে পজিটিভ ভাবে নিবেন এতে দুই একটা প্রশ্নের উত্তর করতে না পারলেও।
সর্বশেষ একটা বিষয় মনে রাখতে হবে ৫০ মার্কের ২৫ পেলেই পাশ তাই টেনশনের কারন নেই।

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো কিছু জনপ্রিয় সংবাদ

© All rights reserved © 2021 NagadNewsBD.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com