শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন

মুসলিম ব্যক্তি অন্য ধর্মের কাউকে বিয়ে করতে চাইলে কি ধর্মত্যাগ করতে হয়।

রিপোর্টারের নাম:
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

এক ধর্মের অনুসারী অন্য ধর্মের অনুসারীকে বিয়া করতে চাইলে বিশেষ বিবাহ আইন (স্পেশাল ম্যারিজ এ্যাক্ট) আসে।
বিশেষ বিবাহ আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো দুটি ভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে বিয়েকে আইনসঙ্গত করা। প্রচলিত ধর্মীয় আইনে ভিন্ন ধর্মের দুই ব্যক্তির বিয়ে করার ক্ষেত্রে কিছু নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যেমন-মুসলিম আইনের মুসলিম পুরুষ কিতাবিয়া অর্থাৎ খ্রিস্টান বা ইহুদি মেয়েকে বিয়ে করতে পারে। কিন্তুু প্রতিমা উপাসিকা কে অর্থাৎ হিন্দু, ব্যৈদ্ধ, শিখ বা জৈন নেয়েকে বিয়া করলে তা অনিয়মিত বিয়ে হয়।
আবার,মুসলিম নারী শুধু মুসলিম পুরুষকে বিয়া করতে পারেন। অন্য যে কোনো ধর্মের মানুষকে বিয়ে করলে তা বাতিল হবে। খ্রিষ্টান আইন ও হিন্দু আইনেরও ভিন্ন ধর্মের মধ্যে বিয়ে সম্ভব নয়। ধর্মীয় পারিবারিক আইনে এই নিষেধাজ্ঞা থাকায় ভিন্ন ধর্মের মধ্যে যারা বিয়ে করতে চান তারা বিশেষ বিবাহ আইন,১৮৭২ এর অধীনে বিয়ে করতে পারেন। ১৮৭২ সালের বিশেষ বিবাহ আইনে বলা আছে, যে ব্যক্তি খ্রিষ্টান, ইহুদি,হিন্দু,মুসলিম পারসি,বৌদ্ধ,শিখ ও জৈনদের মধ্যে হয়, তবে তারা নিজ ধর্ম অনুসরন করে করতে পারে।

বিশেষ বিবাহ আইনের শর্তঃ
বিশেষ বিবাহ আইনে বিয়ে করতে হলে ছেলে মেয়ে দু’জনকেই।
(১) অবিবাহিত থাকতে হবে। অর্থাৎ তাদের অন্য কোনো স্বামী বা স্ত্রী বর্তমান থাকতে পারবে না।
(২) বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-১৯২৯ অনুসারে ছেলের বয়স ২১ বছর ও মেয়ের বয়স ১৮ বছর হতে হবে।
(৩) বিয়ের দু’পক্ষ পরস্পরের সাথে রক্ত সম্পর্ক বা আত্নীয়তার কারনে নিষিদ্ধ স্তরের কেউ হতে পারবে না।
রেজিষ্ট্রেশনঃ
বিয়ের যে কোনো এক পক্ষ রেজিস্ট্রারের কাছে বিয়ের জন্য লিখিত নোটিশ পাঠাবে। এই বিয়ে সরকার নিয়োজিত রেজিস্ট্রার সম্পাদন করবেন।
নোটিশ দেয়ার ১৪ দিন পর বিয়ে সম্পাদন করা হবে। এই বিয়েতে কারো আপত্তি থেকে থাকলে দেওয়ানী আদালতের শরণাপন্ন হতে পারে।
এই বিয়েতে তিনজন সাক্ষী এবং রেজিস্ট্রার উপস্থিত থাকবেন।
বিবাহ-বিচ্ছেদঃ
১৮৬৯ সালের ডিভোর্স অ্যাক্ট,যা খ্রিষ্টানদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তা এই বিয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
উত্তরাধিকারঃ
এই আইনের অধীনে যারা বিয়ে করবেন তাদের এবং তাদের সন্তানদের সম্পত্তি সাকসেশন অ্যাক্ট ১৯২৫ অনুযায়ী ভাগ করা হবে।
এই আইনে বিয়ে করতে হলে দু’পক্ষই ঘোষনা দিতে হয় যে,তারা কোনো ধর্মের অনুসারী নয়।
অর্থাৎ ধর্মত্যাগ না করে এই আইনের অধীন বিয়ে করা যায় না।
যদিও আইনের কোথায় বলা নেই যে ধর্মত্যাগ করতে হবে। কিন্তু যেহেতু এই আইনে বিয়ে করতে চাইলে দু’পক্ষই কোনো ধর্মের অনুসারী হতে পারবেন না, সেহেতু ধর্মত্যাগ না করে বিশেষ বিবাহ আইনে বিয়েও করতে পারবে না।

লেখক-
জে.এ পলাশ
এ্যাডভোকেট
ঢাকা জজ কোর্ট

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো কিছু জনপ্রিয় সংবাদ

© All rights reserved © 2021 NagadNewsBD.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com